শিরোনাম

১৩ দলের ১০ দফা সুমহান আলোকবর্তিকার দাবী নিয়ে বিশাল মানববন্ধন,দাবীগুলো পড়ুন –

টাইমস৭১বিডি অনলাইন ডেস্ক,ঢাকা-বাংলাদেশ – 
মেইল করেছেন – মাওলানা নুরুল হুদা,মহান রাজারবাগ দরবার শরীফ।  
সম্পাদনায় – মাওলানা শোয়ায়েব হোসাইন মোল্লা  – 

দাবী সমূহ :

১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাল্যবিবাহের বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী এনজিওসহ জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননাকারীদেরকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।

৩. বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিরোধী, ঔপনিবেশিক চেতনাম-িত ‘১ মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন’ বন্ধ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেণ্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অচল শহর হওয়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

৫. হাতিরঝিল এবং ঠাকুরগাঁও, ঢাকা-মাওয়াসহ রাস্তা বানানোর নামে শত শত পবিত্র মসজিদ এমনকি পবিত্র কবরস্থান গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মসজিদের শহর ঢাকায় হাতিরঝিলকে মসজিদশুন্য করা হয়েছে। অথচ হিন্দুদের মন্দিরগুলো ঠিকই অক্ষত রাখা হচ্ছে। এমনকি হিন্দুদের খুশী রাখতে মুসলমানদের জমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিনামূল্যে জোড়পূর্বক তুলে দেয়া হচ্ছে। এদিকে ভারতের মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনকর্তৃক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। অথচ উগ্র হিন্দুত্ববাদকে এদেশে লালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে তাদের বসানো হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এসব সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে।

৬. দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের অকালে শিক্ষাজীবন ধ্বংসের হোতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যার্থ, সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নকারী আত্মস্বীকৃত চোর ও দূর্নীতিবাজ, আওয়ামী লীগে প্রবেশ করা কট্টর বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের হাত থেকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রীকে প্রত্যাহার করতে হবে। মুসলমানিত্ব নির্মূলের শিক্ষা আইন অনুমোদন করা যাবেনা। পাঠ্যপুস্তকে পুণরায় হিন্দুত্ববাদ প্রবেশ করানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।

৭. বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি পাহাড়ে স্বায়ত্বশাষণ দিবস পালন করেছে। অর্থাৎ পার্বত্য অঞ্চলকে তারা দক্ষিণ সুদানে পরিণত করতে চায়। অবিলম্বে এদের রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে গ্রেফতার করতে হবে। এছাড়া পার্বত্য জেলা থেকে বাঙ্গালী মুসলমানদের বিতাড়িত করতে হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যার নায়ক সন্তু লারমা কর্তৃক পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালীদের নামজারি স্থগিতের নির্দেশ বাতিল করতে হবে। গণহত্যার নায়ক সন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেনা। তাকে অবিলম্বে বহিস্কার করতে হবে।

৮. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কতৃক অনুমোদিত জাতি নির্মূলকারী জিএম ফুড ‘গোল্ডেন রাইস’ উৎপাদনের অনুমোদন বাতিল করতে হবে। জাতি বিনাশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সিনজেনটা কোম্পানী ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।

৯. ভারত মুসলমানদের ফিরিয়ে না দিয়ে ১ লাখ কোটি টাকার শত্রু সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ৬ লাখ একর শত্রু সম্পত্তি হিন্দুদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আইন করা হয়েছে। অবিলম্বে বিতর্কিত অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে। কুচক্রীদের থেকে মুসলমান প্রতি বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।
১০. যারা আখ এবং পাট চাষ বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়ার কথা বলতে চায় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমস্ত দেশবাসীর চিহ্নিত শত্রু। অবিলম্বে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।

আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য লেখা, প্রকাশনা-প্রচার এবং বাল্যবিবাহ বিরোধীদের শাস্তি মৃত্যুদ-, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মুসলমানদের জমি তুলে দেয়া বন্ধ, উগ্র হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধ, শিক্ষানীতি ২০১০ বাতিল ও বিতর্কিত শিক্ষা আইন পাশ না করা এবং হাতিরঝিলসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ভাঙ্গা বন্ধ, ঢাকা শহর বিকেন্দ্রীকরণ, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল ১০ দফা দাবীতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষের ১৩টি সংগঠন আজ সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে –

(১) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনার ছদ্মাবরণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবমাননায় নাস্তিকরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিকদের মুক্তমনা ব্লগ, ইষ্টিশন ব্লগ, ধর্মকারী ব্লগগুলো এদেশে এখনো তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গত ৭ই আগস্ট গণজাগরণ মঞ্চের কুখ্যাত নাস্তিক ‘মাহমুদুল হক মুন্সি’ তার ফেসবুক টাইমলাইনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো বোন উনাকে জড়িয়ে চরম গর্হিত, অত্যন্ত আপত্তিকর ও ক্ষমার অযোগ্য স্ট্যাটাস দিয়েছে। শুধু নাস্তিক মুন্সিই নয়; চরম ইসলামবিদ্বেষী আইডি নয়ন সাহা, সুষুপ্ত পাঠক, জুলিয়াস সিজার, জ ই মামুন, রাজেশ পাল, সুপ্রীতি ধর’রা এদেশে তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। গত ৭ অক্টেবরও সুপ্রীতি ধর বাথরুমে রেখে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করার কথা বলেছে। অথচ পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি তাদের বির”দ্ধে কোনো মামলা দেয়নি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণদের ক্ষেপিয়ে দেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রাখলেও বঙ্গবন্ধুর যিনি হযরত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে শাস্তির জন্য ১০ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দন্ডবিধি সব আইনেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিন্দু থেকে বিন্দুতম অবমাননা করলে বা মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশ ও প্রচার করলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুদ-ের বিধান করতে হবে।


(২) পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাল্যবিবাহের বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী এনজিওসহ জড়িতদের সনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, এনজিওগুলো কর্তৃক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অব্যাহত তথ্যসন্ত্রাসের শিকার হয়ে অনৈতিক বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়ণ করেছে সরকার। অথচ দেশে ১৮ বছরের নীচের ছেলে মেয়েদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলে অবৈধ গর্ভপাত, ভ্রুণহত্যা ও কুমারী মাতার পরিমাণ। সে নিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী এনজিও বা সরকারের কোন মাথাব্যাথা নেই।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বছরে কত সংখ্যক গর্ভপাত হয় তার একটি জরিপ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুতম্যাকার ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে তাদের সঙ্গে গবেষণার কাজটি করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন বাংলাদেশ (বাপসা)। গুতম্যাকার ইনস্টিটিউটের জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৯৪ হাজার অবৈধ গর্ভপাত হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে দিনে ৩ হাজার ২৭১টি গর্ভপাত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গাটমেচারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখের বেশি অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। এদিকে আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ গর্ভপাতের ঘটনাই ঘটে বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্কের কারণে। বৈধ ও শরীয়তসম্মত বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বললেও ১৮ বছরের নীচের টিনেজ ছেলে মেয়েদের লাখ লাখ অবৈধ গর্ভপাতকে সমর্থন করছে বাল্যবিবাহ বিরোধীরা। অথচ বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী গর্ভপাত অবৈধ।
বক্তারা বলেন, যমুনা টিভি’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসেছে, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ ভ্রুণ শিশু হত্যা করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য এর অধিকাংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচের কুমারী মাতাদের অবৈধ ফসল। এনজিও, নারীবাদী এবং সরকার অবৈধভাবে কুমারী মাতা হতে সমর্থন করছে তাই এর বির”দ্ধে কিছু বলছে না। এমনকি আইন প্রণয়নও করছে না। কিন্তু বৈধ বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ইউনিসেফ দাবি করেছে বাল্যবিবাহের কারণে বাংলাদেশে ২৩ হাজার শিশু মারা যায়। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ১৪ জন শিশু মারা যায়। সে হিসেবে বছরে মারা যায়, ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪০ জন। ইউনিসেফের দাবি অনুযায়ী, অল্প বয়সে বিয়ে করলে যদি ২৩ হাজার শিশু মারা যায়, তবে বাকি ৯৯,৬৪০ জন শিশু মারা যায় কেন? তারা তো বাল্যবিবাহের ফলে মারা যায়নি। সুতরাং বাল্যবিবাহের কারণে শিশু মৃত্যুর প্রচারণা মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষীদের নির্ঝলা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। এছাড়া বাল্য বিবাহ রোধে আইন প্রণয়ণ করা হলো কিন্তু দেশে কথিত বাল্য বিবাহে শিশুমৃত্যুর ৪ গুণেরও বেশী শিশু মৃত্যু হচ্ছে সেজন্য তো কোন আইন প্রণয়ণ না হওয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূলত সুন্নতি বাল্য বিবাহের বিরোধীতা করা।
বক্তারা বলেন, মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিবাহ অস্বাস্থ্যকর নয় বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত। গবেষণা মতে, ১৯ এর নিচে মা হতে যদি সিজারিয়ান অপরেশন লাগে ৫%, সেখানে ২৬-এ মা হলে সিজারিয়ান হার বেড়ে দাড়ায় ২৫% -এ। এছাড়া লন্ডন থেকে প্রকাশিত গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করেছেন, সময় যত কাছে আসছে, ছেলে ও মেয়েরা তত তাড়াতাড়ি বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে। কয়েক বছর আগে, জার্মান বিজ্ঞানিরা এক গবেষণায় বলেছে, ১৮৬০ সালে মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হতো ১৬.৬ বছর বয়সে, ১৯২০ সালে তা নেমে আসে ১৪.৬ বছর বয়সে, ১৯৫০ সালে তা হয় ১৩.১ বছর বয়স, ১৯৮০ সালে তা আরো নেমে দাড়ায় ১২.৫ বছর বয়স, এবং ২০১০ সালে তা দাড়িয়েছে ১০.৫ বছর বয়সে এবং সূত্রমতে ২০১৮ সালে এই বয়স ৯ এর ঘরে নেমে এসেছে (https://is.gd/NFMy6y) । সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাল্যবিবাহের ফলে মায়ের স্বাস্থ্যগত ঝুকির প্রচারণাও মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী এনজিও, নারীবাদীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।
বক্তারা বলেন, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ নারীবাদী তথা প্রগতিবাদীদের দৃষ্টিতে ১৮ বছরের আগে কেউ বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হতে পারে না। অথচ নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক ইউরোপ-আমেরিকার বহু দেশেই ১৮ বছরের নীচে বিয়ে দেয়া ও করা সম্পুর্ণ বৈধ এবং তারা বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃত। এক্ষেত্রে তারা আপত্তি জানাতে ব্যর্থ।
বক্তারা বলেন, ১) অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের বিয়ের সর্বনিন্ম বয়স ১৮, কিন্তু কোর্টের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে। ২) বেলজিয়ামে আদালতের অনুমতিতে ১৮ বছর বয়সের কমে বিয়ে হতে পারে। ৩) বুলগেরিয়ায় আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। ৪) ডেনমার্কে রাজার অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে। ৫) ফ্রান্সে পিতা-মাতা ও আদালতের সম্মতিতে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হতে পারে। ৬) জার্মানিতে আদালত ও পিতা-মাতার ইচ্ছায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। ৭) ইটালিতে আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। অনুরূপভাবে নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, রাশিয়া এবং ইংল্যান্ডে মেয়েরা ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারে। কানাডায় কোর্টের অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সে মেয়েরা বিয়ে করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারে। আমেরিকায় বহু স্টেটে মেয়েরা কোর্টের অনুমতি নিয়ে কমবয়সে বিয়ে করতে পারে। (সূত্র: উইকিপিডিয়া http://goo.gl/N2DLSB)
বক্তারা বলেন, নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো ১৬ বা ১৮ বছর বয়সের নীচে বিবাহকেই অনুমতি দিচ্ছে না বরং অবৈধ কুমারী মাতাকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাদের অবৈধ সন্তানের ভরণ-পোষণও করছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘চাইল্ড ট্রেন্ড’র সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ জরিপ অনুযায়ী নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকায় ২০০৯ সালে কুমারী মায়ের সংখ্যা ছিল ৪১ শতাংশ। গত ৫ দশকে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী কুমারী মায়ের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাছাড়া ইউএস সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সমীক্ষা অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিশোরী মা হচ্ছে। সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিজের (সিএসজে) গবেষণায় দেখা গেছে ব্রিটেনে, ৪৬ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় কুমারী মায়ের গর্ভে। অথচ এসব দেশের বির”দ্ধে তথাকথিত নারীবাদীদের প্রতিবাদ নেই। কুমারী মাতা নামক এসব অবৈধ সর্ম্পকের প্রতিকারে জাতিসংঘে তাদের কোন আবেদন নিবেদনও নেই। বরং বাংলাদেশের মতো মুসলমান দেশগুলোতেই তাদের সব অপতৎপরতা।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে, ছেলের ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে আইন অনুযায়ী তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য। এক্ষত্রে বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে ২ বছর কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ)
অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০, ৬০, ৮০ ইত্যাদি বছরের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না- এমন কোনো শর্ত-শারায়িত সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে উল্লেখ নেই।
বক্তারা বলেন, স্বয়ং বঙ্গবন্ধু দশ বছর বয়সে তিন বছর বয়সী বঙ্গমাতা ফযীলাতুন্নেছাকে বিয়ে করেছেন। যা বঙ্গবন্ধুর ৯৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স¦রচিত লিখনীতেও রয়েছে। বাল্যবিবাহ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে রয়েছে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা বাল্যবিবাহ করেছেন।
সুতরাং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনকে ঘষেমেঝে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ নামক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কালো আইন এদেশের মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের বিয়ের নুন্যতম বয়স নির্দিষ্ট নয় বরং ছেলে বা মেয়ে যখন বিয়ের উপযুক্ত হবে তখন বিয়েতে সব ধরনের সহযোগীতা সরকারকে করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ উনাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে প্রণীত আইনে এদেশে কোনো মেয়ের বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দ-নীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করেছে। অথচ তাদের দেশে অনুমতি সাপেক্ষে ১৬ বছরে বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিবাহ বা বাল্যবিবাহ নিয়ে এদেশের জনগণ বা সরকারের কোন মাথাব্যথা না থাকলেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পশ্চিমা এনজিওগুলোর মাথাব্যথা বেশী। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসে তারা কথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি, মিডিয়া, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে নিয়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে, মিডিয়ায় লিখাচ্ছে। প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিনিময়ে নগদ খাম ধরিয়ে দিচ্ছে। দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংস, এইডস ছড়ানো, জনসংখ্যা হ্রাস, দেশদ্রোহী হাজারো তৎপরতার সাথে জড়িত এসব এনজিও। এসবের মধ্যে রয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর), যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন, ইহুদী স্বার্থ সংরক্ষণকারী ইউনিসেফ, জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ব্র্যাক। বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ এবং দেশ ও মুসলিম বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত এসব এনজিওদের নিষিদ্ধ করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদন্ড  দিতে হবে।  


(৩) বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিরোধী, ঔপনিবেশিক চেতনামন্ডিত ‘১ মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন’ বন্ধ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে আজকাল কেউ ইন্তেকাল করলে তার স্মরণে সংসদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক মিনিট ‘নিরবতা’ পালন করা হয়। অথচ এটা এদেশীয় কোন সংস্কৃতি নয়, এমনকি এটা বঙ্গবন্ধুও কোনদিন পালন করেননি। কোনো মুসলমান ইন্তেকাল করলে তার জন্য কোনো সওয়াব রেসানী বা পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার অনুষ্ঠান হতে পারে। যা এদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য। কিন্তু তা না করে পালন করা হচ্ছে ‘১ মিনিট নিরবতা’। অথচ এই অনুষ্ঠান পালনে নেই কোনো সওয়াব, নেই কোনো আখিরাতের কল্যাণ; বরং বিপরীতটি রয়েছে।
ইতিহাসে রয়েছে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কোয়াকার-রা প্রায় ৩৫০ বছর ধরে এই মিনিট নিরবতা পালনের অনুষ্ঠান করে আসছে। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে এটি পালন করে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জার্মানির সাথে যুদ্ধ বিরিতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রিটিশদের যেসব যোদ্ধারা মারা যেত তাদের স্মরণে সাউথ আফ্রিকার কেপ টাউনে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হতো। এই নিরবতা পালনের বিষয়টি রয়টার্সের একজন সাংবাদিক লেখালেখির মাধ্যমে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেয় এবং যা পরে কালচারে প্রবেশ করে যায়। এছাড়া একজন অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক Edward George Hone ব্রিটেনের “London Evening News” পত্রিকায় ১৯১৯ সালে একটি চিঠিতে লেখে, “১৯১৮ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়া প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে মারা যাওয়া সৈনিকদের জন্য যেন ৫ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়”। পরবর্তীতে রাজনীতিবিদ পার্সি ফিতযপ্যাট্রিক ব্রিটেনের প্রধান সপ্তম জর্জের কাছে এই বিষয়টি পেশ করলে এটি প্রশাসনিকভাবে গৃহীত হয়।
বক্তারা বলেন, ১ মিনিট নিরবতা পালনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়; এটি খ্রিস্টানদের কেবলি একটি বানানো অনুষ্ঠান এতে মুসলমান মৃত ব্যক্তির কোনো লাভ হয় না। কিন্তু আমরা মুসলমানগণ বিশ্বাস করি সওয়াব রেসানীর মাধ্যমে বা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠে দোয়া করলে তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয় যা তার নাজাতের উসিলা হতে পারে। তাহলে এসব বিধর্মী অনুষ্ঠানকে আমাদের সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ ঘটানোর উদ্দেশ্য কি? খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি এই “১ মিনিটের নিরবতা” পালন বন্ধ করতে হবে। এর বিপরীতে কোনো মুসলমান ইন্তেকাল করলে সওয়াব রেসানী বা পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার ব্যবস্থা করতে হবে।


(৪) ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেণ্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অচল শহর হওয়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ঢাকা পরিণত হয়েছে দেশবাসীর প্রধান গন্তব্যস্থলে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ঢাকাকে কেন্দ্র করে। অতিরিক্ত চাপ সইতে না পেরে ঢাকা অচল শহর হতে চলেছে ঢাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ-এর কোন বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন, গবেষণায় এসেছে, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিই ঢাকায়। ৩৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩২টিই এ ঢাকা মহানগরীতে। শুধু সংখ্যার বিচারেই নয়, মানের দিক থেকেও দেশের সেরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এ শহরটিতে কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (মে, ২০০৯) তথ্য অনুযায়ী, ৬টি বিভাগে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর মধ্যে ৩০ লাখ ৩০ হাজার (২৮ শতাংশ) শিক্ষার্থী শুধু ঢাকা বিভাগেই। এর বড় অংশটি ঢাকা শহরে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের চরম ভারসাম্যহীন অবস্থার এটিই বাস্তবচিত্র।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক ‘দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০১৭’ ১৪০টি শহরের রাজধানী ঢাকা ৩৮ দশমিক ৭০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ঢাকায় বর্তমানে ২ কোটি লোকের বসবাস। ১৯৮০ সালে ঢাকায় ৩০ লাখ লোকের বসবাস ছিল। এর মধ্যে ৩৫ লাখ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। ২০৩৫ সালে ঢাকায় মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন হবে। ১০ বছর আগে ঢাকার গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, আর বর্তমানে তা প্রায় ৪ কিলোমিটারে নেমে আসছে। মানুষের হাঁটার গতির মান ঘণ্টায় গড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। সবমিলিয়ে অচল শহরে পরিণত হতে চলেছে ঢাকা। এ থেকে পরিত্রাণে অবিলম্বে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনই বিকল্প নেই। প্রতিটি জেলার সুষম উন্নয়ন করতে গেলেও বিকেন্দ্রীকরণের ছাড়া কোন উপায় নেই। অবিলম্বে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।


(৫) হাতিরঝিল এবং ঠাকুরগাঁও, ঢাকা-মাওয়াসহ রাস্তা বানানোর নামে শত শত পবিত্র মসজিদ এমনকী পবিত্র কবরস্থান গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মসজিদের শহর ঢাকায় হাতিরঝিলকে মসজিদশুন্য করা হয়েছে। অথচ হিন্দুদের মন্দিরগুলো ঠিকই অক্ষত রাখা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, উন্নয়ন, বিনোদন ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে দেশে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার মহোৎসব চলছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে নির্মিত নুর মুহাম্মদ মিয়ার দানকৃত ১৯৯৫ সালে রেজিষ্ট্রি মূলে ওয়াকফকৃত ৬ শতক ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হাতিরঝিলের আলোচিত ভাসমান বায়তুল মাহফুজ মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে একমাত্র পবিত্র মসজিদ শুন্য থানায় পরিণত হয়েছে নবগঠিত হাতিরঝিল থানা। এছাড়া ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মসজিদ। এর আগে গত কয়েক বছরে শুধু আগারগাঁও এলাকায় ৫টি মসজিদ ১টি মাদরাসা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। মেট্রো রেল প্রকল্পে কারণে আরো ২১টি মসজিদ ভাঙ্গার তালিকায় রয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে ২১টি মসজিদ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কামরাঙ্গীরচর আশ্রাফাবাদ এলাকার আল-আকসা জামে মসজিদ ও নূর জাহান বেগম জামে মসজিদ ভাঙার চক্রান্ত চলছে। যা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এবং দেশবাসী মুসলমানের জন্য উদ্বেগজনক ও উস্কানীমূলক।
বক্তারা বলেন, মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার আদেশ নির্দেশ করা হলেও মন্দির, গীর্জা ঠিকই অক্ষত রাখা হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে মিরপুর ২নং-এ ৬০ ফুট রাস্তাটি কামাল পাশা সরণিটি সরাসরি শিশু হাসপাতালের রাস্তার সাথে সংযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২২/১৯ বড়বাগ ঠিকানার ‘নাজারেথ নভিসিয়েট ও এসএল লুইজেন সিস্টারস নামক একটি গির্জা থাকায় না ভেঙ্গে রাস্তা ঘুরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের পুটিয়ার ইন্দ্রপুর মহাসড়কের নির্মাণ করলে ১টি মন্দির ও শ্মশান ও হিন্দুদের কয়েকটি ঘর সরানোর প্রয়োজন থাকায় যোগাযোগমন্ত্রী শুধু ১টি মন্দির ও শ্মশানই নয়, বরং হিন্দুদের বাড়িঘর রক্ষারও আশ্বাস দেয়। অথচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে ফ্লাইওভারের জন্য মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সরকারিভাবে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র মূলত গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। কথিত উন্নয়নের নামেও সম্প্রতি পবিত্র মসজিদ-মাদরাসা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী ও উস্কানীমূলক। এসবের মাধ্যমে প্রতীয়মান হচ্ছে, ইসলামবিদ্বেষীদের হাতে মুসলমানদের দ্বীনী স্থাপনাও নিরাপদ নয়। সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করতে কিছু ইসলামবিদ্বেষী কুচক্রী মহলের কারসাজি। অবিলম্বে মুহাম্মদপুর ও মালিবাগ এবং ফেনীর মহিপালে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার হোতাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদরাসা অধিগ্রহণের ইসলামবিরোধী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
ভারতের মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনকর্তৃক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। অথচ উগ্র হিন্দুত্ববাদকে এদেশে লালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে তাদের বসানো হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এসব সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে।
বক্তারা আরো বলেন, গত ৮ মার্চ ভারত সফরকালে চীনের সাথে সম্পর্ক রাখায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে আসামের হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন হিন্দু যুব পরিষদ। সরকারের ইন্ধন ছাড়া একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে এমনটি হওয়ার কথা নয়। সেজন্য এ অপমানের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি ভারত। এদের গ্রেফতারও করেনি ভারত। এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এসব কান্ড গোটা বাংলাদেশকে অবমাননার শামিল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ত্বের প্রতি হুমকীস্বরুপ।
বক্তারা বলেন, ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা হলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো আচরণ করেনি। ৪৭ বছর ধরে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে পাখির মতো গুলি করে মারছে। ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। তিস্তার ন্যায্য পানি বাংলাদেশকে দিচ্ছে না ভারত। দখলে নেয়া বেরুবাড়ি ও তালপট্টি ভূখণ্ড ফিরিয়ে দিচ্ছে না। বিগত ৪৭ বছরে ভারত বাংলাদেশের ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করেনি।
বক্তারা বলেন, মৌলবাদী হিন্দুদের বাংলাদেশ ও আমাদের সরকার বিরোধী অপতৎপরতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও দেশে নগ্নভাবে হিন্দুত্ববাদের তোষণ চলছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন মুসলমানদের ৩৫ কোটি টাকার জমি মন্দির সম্প্রসারণের নামে বিনামূল্যে একোয়ার করে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। গত অর্থবছরে শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত দুশো কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটেও অর্থমন্ত্রী হিন্দুদের জন্য ১০০ কোটি টাকা অগ্রিম বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদে হিন্দুদেরকে পূজার অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চ ও নি¤œ প্রত্যেক পদে পদে হিন্দুদের বসানো হচ্ছে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পুলিশের এসআই পদে নিয়োগে দেখা গেছে, ১৫২০ জনের মধ্যে হিন্দু নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৩৪ জন যা মোটের ২১.৯৭ শতাংশ। ২০১১ সালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইতে নিয়োগের ৯৩ জনের মধ্যে হিন্দু নিয়োগ করা হয়েছে ২৩ জন। যা মোটের ২৪.৭৩ শতাংশ। ৬ষ্ঠ ব্যাচে সহকারি জজ পদে নিয়োগ দেয়া ১২৪ জনকে। এর মধ্যে ২২ জনই হিন্দু। শতকরা হিসেবে ১৭ শতাংশ। ইতিমধ্যে এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মুসলমান দেশে মুসলমানদের প্রতি ব্যাপক বৈষম্যের দাবিই দৃঢ় হচ্ছে। এসব কর্মকান্ডে ‘সরকার হিন্দু তোষণ করছে’ বলে বিরোধীরা ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ পেয়েছে। কারণ এর আগেও বিরোধীরা সরকারের হিন্দু প্রীতির অভিযোগ এনেছে। উগ্র ইসকন হিন্দু এসকে সিনহার নিয়োগে ওলামা লীগের আপত্তি আমলে না নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই ইসকন হিন্দু এসকে সিনহা’ই সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সুতরাং প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা একটি মহল দেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদকে লালন করছে। অবিলম্বে এসব মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীদের নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রশাসন থেকে এদেরকে বহিস্কার করতে হবে।
হিন্দুদের খুশী রাখতে মুসলমানদের জমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিনামূল্যে তুলে দেয়া হচ্ছে। এদেশের মুসলমানরা মুসলমানদের এক ইঞ্চি ভূমি সাম্প্রদায়িকদের হাতে তুলে দিতে দিবেনা। দেশের সকল মুসলমানকে এ বিষয়ে দ্রুত এক হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। প্রশাসনে একচেটিয়া হিন্দু তোষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের শীর্ষ পদে উগ্র হিন্দু সচিব শৈলেনদের বেপরোয়া নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ভারতে দেবোত্তর সম্পত্তি, মন্দিরের সম্পত্তি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে বাবরী মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ যেভাবে ভেঙে দখল করা হয় একই ষ্টাইলে বাংলাদেশে পবিত্র মসজিদ-মাদরাসা ও মুসলমানের সম্পত্তি দখলের কূটচাল শুরু করেছে এদেশীয় গয়েশ্বর মার্কা কুচক্রী সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা। গেন্ডারিয়ায় মুসলমানদের পবিত্র মসজিদকে দেবোত্তর সম্পত্তির নামে দখলের অপতৎপরতা চালানোর পর এবার কথিত দেবোত্তর সম্পত্তির নামে মিথ্যাচার করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশেপাশের মুসলমানদের জমি দখলের পায়তারা করছে।
বক্তারা বলেন, ভারতের বাবরী মসজিদ ষ্টাইলে তথা পবিত্র মসজিদের জায়গায় মন্দির থাকার নামে যেভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল সে একই ষ্টাইলে সব মামলায় বারবার হেরে যাওয়ার পর এখন মুসলমানদের সেই সম্পত্তিকে দেবোত্তর সম্পত্তির ঢেকুর তুলেছে ঢাকেশ্বরী কর্তৃপক্ষ। অথচ মামলার শুনানীতে কখনো দেবোত্তর সম্পত্তির নাম মুখেও উচ্চারণ করেনি।
বক্তারা বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পাশ্ববর্তী মুসলমানদের ক্রয়কৃত ভূমি দখলে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ১৯৬৯ সালে পঞ্চম সাব জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নং ২৯/৬৯, ভূমি আপীল বোর্ড পর্যন্ত দো-তরফা শুনানী, সিটি জরিপে দো-তরফা শুনানীতেও হারে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সাব জজ আদালতে পুণর্গঠিত ১১৫/৯০ নং মামলাতেও হেরে যায়। অতঃপর হাইকোর্টে রিভিসন ও রিভিউ মামলায় হেরে সুপ্রিমকোর্টে ৩৬/৯৬ নং সিভিল আপিল দায়ের করে, কিন্তু মামলার গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় মামলা পরিচালনা বন্ধ রাখে। পরে ২০১৩ সালে ১১৫/৯০ মামলায় Statusquo vacate এর রায় প্রতারণাপূর্বক গোপন রেখে ১১৫/৯০ মামলার ৩নং বিবাদী মোঃ ইউসুফ এর বিরুদ্ধে মাত্র ৮৯ শতাংশের কাতে .০৪ শতাংশে Statusquo রায় পায়।
বক্তারা বলেন, আদালতে বারবার হেরে যাওয়ার পর সাবেক ভূমি সচিব উগ্র হিন্দু শৈলেন মজুমদারের পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর নামে মুসলমানদের জমি দখলের ফাঁদ পাতা হয়। মামলার কোন ভবিষ্যৎ না থাকায় উগ্র হিন্দু শৈলেন ভূমি সচিব থাকাবস্থায় ঢাকেশ্বরী মন্দির সম্প্রসারণে মন্দিরের পক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ নালিশা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করে। সেটাকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় শৈলেন। সে জমির মালিকদের ভূমি প্রতিমন্ত্রী শামসুজ্জামান (জাভেদ) এর কাছে নিয়ে যায়। ভূমি প্রতিমন্ত্রী শামসুজ্জামান জাবেদের মধ্যস্থতায় উপযুক্ত মূল্য প্রদানের শর্তে জমির মালিকরা জায়গা বিক্রি করতে রাজি হয়। বাজারমূল্য প্রদানে ভূমি মন্ত্রণালয় ৩০০ টাকার ষ্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করে দেয়। যাতে পূজা কমিটির লোকজন স্বাক্ষর করে। অতঃপর ডিসি অফিস হতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে মূল্য পরিশোধের তাগিদ দেয়। কিন্তু শৈলেনের প্রভাবে ডিসি অফিস টাকা আদায় না করেই জায়গার পজিশন বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মালিকপক্ষকে নোটিশ জারী করে। এর বিরুদ্ধে মুসলমান মালিকগণ হাইকোর্টে রিট মামলা নং দায়ের ৪৫৫/২০১৫ করে। ওই রিট মামলায় রুল জারি করা হয় Let the order of Stay Granted earlier by this court by extended till disposal of the rule. পরে ২য় সাবজজের দেওয়ানী মামলা নং ১১৫/৯০ ৪র্থ সাবজজে বদলি হয় এবং দুইটা অর্ডার এর বিপক্ষে ঝঃধু হয়ে আছে। তারপরও উগ্র মৌলবাদী হিন্দুরা জমি দখলে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এর মধ্যে তারা মানববন্ধন করে প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করে এবং ১৯০৮ সালের একটি দলিল দেখিয়ে ২০ বিঘা সম্পত্তি দাবী করে। কিন্তু ওই দলিল হইতে ভাওয়াল রাজার তিন পূত্রের দ্বারা পূজারী হেম চন্দ্র চক্রবর্তীর পিতা পূজারী প্রতাপচন্দ্র চক্রবর্তীকে সি, এস ১৬৭৯৯ নং খতিয়ানে এক আনা ভোগত্তর এর দলিল ঢাকেশ্বরীর মাতার সেবা পূজা করার জন্য। সেই একআনার দলিলকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ২০ বিঘার দলিল বলে ভক্ত এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চালাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এই উগ্র মৌলবাদীরা উগ্র হিন্দু সচিব শৈলেনের উপস্থিতিতে ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন, মিছিল, মিটিং করেছে। মুসলমানদের জঙ্গি অপবাদ দিয়ে শাহবাগে মিছিল সমাবেশ করেছে। অনশন করে দখলদারীর বৈধতার ভিত্তি দাঁড় করাতে চাচ্ছে। মৌলবাদী হিন্দুরা গায়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চালাতে চাচ্ছে। অথচ মুসলমানরা কোন মন্দিরকে পবিত্র মসজিদের জায়গা বলে দাবি করেনি। কিন্তু মৌলবাদী গয়েশ্বর মার্কা হিন্দুরা গেন্ডারিয়ার মসজিদের মতো বাবরী মসজিদ ষ্টাইলে এদেশের পবিত্র মসজিদ মাদরাসা, মুসলমানদের জমি দখল করতে চায়। বাংলাদেশকে বাবরী মসজিদের ন্যায় রণক্ষেত্র বানাতে চায়। কিন্তু এদেশের মুসলমানরা মুসলমানদের এক ইঞ্চি ভূমি সাম্প্রদায়িকদের হাতে তুলে দিতে দিবেনা। দেশের সকল মুসলমানকে এ বিষয়ে দ্রুত এক হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। প্রশাসনে একচেটিয়া হিন্দু তোষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের শীর্ষ পদসহ সবপদে উগ্র হিন্দু সচিব শৈলেনদের বেপরোয়া নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এসকে সিনহার মতো বিশ্বাসঘাতকদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। মুসলমানদের নিজ দেশে পরবাসী করার ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।


(৬) দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের অকালে শিক্ষাজীবন ধ্বংসের হোতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যার্থ, সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নকারী আত্মস্বীকৃত চোর ও দূর্নীতিবাজ, আওয়ামীলীগে প্রবেশ করা কট্টর বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের হাত থেকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রীকে প্রত্যাহার করতে হবে। মুসলমানিত্ব নির্মূলের শিক্ষা আইন অনুমোদন করা যাবেনা। পাঠ্যপুস্তকে পুণরায় হিন্দুত্ববাদ প্রবেশ করানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগে প্রবেশ করা বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নাহিদের কারণে ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিয়মিত প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন শিক্ষাব্যবস্থার অনুসঙ্গ হয়ে দাড়িয়েছে। নাহিদের সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির কারণে ঝড়ে পড়ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। নাস্তিক্যবাদী ও বিতর্কিত শিক্ষানীতির আলোকে পিএসসি পরীক্ষা চালু করে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে অকালে শিক্ষাজীবন ধ্বংস করে দেয়ার কারিগরও নাহিদ। পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করে সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষকতা করার মূলেও এই বিতর্কিত মন্ত্রী। নাহিদের ব্যর্থতা ফাঁস করেছে, নব নিযুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রি মোস্তফা জব্বারও। তিনি বলেছেন, ‘প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জন্য বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকায় নিজ এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ’কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন, উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িচালক মো. বশীর রয়েছে কোটি টাকার কারখানা। দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের দপ্তরের পিয়ন মোহাম্মদ আলী ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলো। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এই দুর্নীতিবাজকেই তার দপ্তরে পদায়ন করে। তার দপ্তরের কর্মকর্তা মোতালেব-নাসির-আনসার-মোহাম্মদ আলীর মতো দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে নীরব ছিল শিক্ষামন্ত্রী। এতকিছুর পরেও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ। এর নেপথ্য কারণ মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে বলেছে, আমিও চোর অন্যান্য মন্ত্রীও চোর। আর সেটা আরো সুস্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি এবং অনিয়মের সঙ্গে নাম এসেছে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের স্ত্রী জোহরা জেসমিনের নাম। গ্রেফতার হওয়া মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব এ তথ্য ফাঁস করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দিনের পর দিন এসব চললেও মূলত নেপথ্যে মন্ত্রী নিজে থাকায় এসব অপকর্ম থামাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি শিক্ষামন্ত্রী।
বক্তারা বলেন, দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের অকালে শিক্ষাজীবন ধ্বংসের হোতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যার্থ, আত্মস্বীকৃত চোর ও দূর্নীতিবাজ, আওয়ামী লীগে প্রবেশ করা কট্টর বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের হাত থেকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারের ভাবমর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে এই শিক্ষামন্ত্রী নাহিদকে প্রত্যাহার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, প্রবল আপত্তি আর তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কুফরী শিক্ষানীতি এবং হিন্দুত্ববাদী পাঠ্যসূচী কোনরূপ সংশোধন না করেই বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী এখন শিক্ষা আইনও চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছে। যা মুসলমানদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কারণ যদি এ কুফরী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন মুসলিম জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে মুসলমানরা তাদের দ্বীনী অধিকার হারাবে। মুসলমানরা স্বকীয় বৈশিষ্ট হারিয়ে নাস্তিক্যবাদী চেতনায় গড়ে উঠবে। যা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ চক্রান্ত।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের ধারা-৭-এর (১), (২), ও (৩) অনুযায়ী, সাধারণ বিষয়ের একই পাঠ্যবই মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হলে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত মাদরাসা শিক্ষা তার স্বাতন্ত্র্য হারাবে। অর্থাৎ স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার মধ্যে শুধু নামের পার্থক্য ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
বক্তারা বলেন, আইনের ধারা-৭-এর (১১) অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের মাধ্যমে শ্রেণী ও বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করবে এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ নিশ্চিত করবে। এর বাইরে অন্যকোনো পুস্তক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এ বিধান লংঘন করলেও শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে মাদরাসাগুলোতে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফসহ সম্মানিত ইসলামী মূলধারার বই পড়ানো দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। তাই অবিলম্বে ইসলামবিদ্বেষী ও ইসলামী শিক্ষা সংকোচনকারী শিক্ষানীতি-২০১০ এবং শিক্ষা আইন-২০১৬ বাতিল করতে হবে। শিক্ষানীতি-২০১০ এবং শিক্ষা আইন-২০১৬ বাতিল কোনমতে জাতীয় সংসদের পাস করা যাবে না। নাস্তিক্য ও হিন্দুত্ববাদী পাঠ্যসূচি সংস্কার না করে নতুন বই ছাপানো যাবে না।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম হওয়ার পরও পাঠ্যপুস্তকে যৎসামান্য ইসলামী চেতনা সম্বলিত প্রবন্ধ থাকায় ইসলামবিদ্বেষী তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়াগুলো আপত্তি তুলেছে। অথচ ভারত তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হওয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম লেখকদের গল্প-কবিতা স্থান পায় না। যেমন পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের মোট ২১টি পাঠ্যে লেখক-কবির নাম উল্লেখ আছে, যার ১০০% হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০%-এর উপরে। মুসলিম কবি-সাহিত্যিকেরও অভাব নেই সেখানে, তারপরও সব বাদ, শুধু হিন্দুদের গল্প-কবিতা থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ উল্টো। মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে ২০১৭ সালের ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বইয়ে ১৭৭টি গদ্য-পদ্যের লেখকদের মধ্যে ৭২ জন হিন্দু ৩৮ জন নাস্তিক মিলে মোট ১১১ জনই হিন্দু ও নাস্তিক লেখক। বাংলা বইয়ে যাদের শতকরা ৬২.৭১ ভাগ দখল ছিল।
বক্তারা বলেন, মুসলমানিত্ব নির্মূলের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে পুনরায় হিন্দুত্ববাদ প্রবেশ করানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। শিক্ষানীতি ও সিলেবাস প্রণয়ন কমিটি থেকে অবিলম্বে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের বহিষ্কার করতে হবে। আলিম-উলামাদের বাদ দিয়ে ইসলামবিদ্বেষীদের হাতে মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার চক্রান্ত যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।


(৭) বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি পাহাড়ে স্বায়ত্বশাষণ দিবস পালন করেছে। অর্থাৎ পার্বত্য অঞ্চলকে তারা দক্ষিণ সুদানে পরিণত করতে চায়। অবিলম্বে এদের রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে গ্রেফতার করতে হবে। এছাড়া পার্বত্য জেলা থেকে বাঙ্গালী মুসলমানদের বিতাড়িত করতে হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যার নায়ক সন্তু লারমা কর্তৃক পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালীদের নামজারি স্থগিতের নির্দেশ বাতিল করতে হবে। গণহত্যার নায়ক সন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেনা। তাকে অবিলম্বে বহিস্কার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, গত ১০ মার্চ স্বায়ত্বশাষন দিবস পালন করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী পার্বত্য সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ। সেটা তাদের ফেসবুক পেজে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু দেশবিরোধী নিষিদ্ধ সংগঠন এরকম একটা দেশ বিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মসূচী পালন করল কিন্তু সেটা ভন্ডুল করা হলো না, সেটা গভীর উদ্বেগজনক। কারণ বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা আজ স্বায়ত্বশাসন দিবস পালন করেছে কাল স্বাধীনতা দিবস পালন করবে। বাংলাদেশের বুক চিরে স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের অস্থিত্যের ঘোষণা দিবে। এই ষড়যন্ত্রে একযোগে কাজ করছে ইউপিডিএফ এবং জেএসএস। কথিত শান্তিচুক্তির আড়ালে একদল বাহিরে সরকার ও সেনাবাহিনী সামলাচ্ছে অন্যদল সশস্ত্র ট্রেনিং নিচ্ছে। অথচ শ্রীলঙ্কার মতো ছোট্ট দেশ পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারীদের চাপে নতি স্বীকার না করে, কোন ধরণের শান্তি চুক্তি না করেই তামিল বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। অথচ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে নের্তৃত্বদানকারী, শক্তিশালী ও দাপুটে সেনাবাহিনী থাকা সত্বেও বাংলাদেশ পার্বত্য ষড়যন্ত্রকারীদের সংগঠিত হওয়ার সময় দিচ্ছে। যা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবিলম্বে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের দমন করা হোক। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা প্রদান করা হোক। পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ধ্বংস করা হোক।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি তিন পার্বত্য জেলায় বন্দোবস্তকৃত জমির নামজারিসহ খাজনা/কর আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যার হোতা সন্তু লারমা এ নির্দেশ দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তির খ-খণ্ডের ৩ নং অনুচ্ছেদে অ-উপজাতি স্থায়ী বাসিন্দার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে রয়েছে, যিনি উপজাতি নয় এবং যার পার্বত্য জেলার বৈধ জায়গা জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করে তাকে বুঝাবে। তাহলে অ-উপজাতি বাঙ্গালীরা কেন বন্দোবস্ত, নামজারী, খাজনা ও কর দিতে পারবেনা? তাদের নিজের জমি জমা ভোগ করার অধিকার তাদের রয়েছে। এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করা দেশের আইন ও সংবিধান বিরোধী।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য জেলা থেকে বাঙ্গালী মুসলমানদের বিতাড়িত করতে হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যার নায়ক সন্তু লারমার বাঙ্গালীদের নামজারি স্থগিতের নির্দেশ বাতিল করতে হবে। পার্বত্য চুক্তি থেকে বাঙ্গালীদের বঞ্চিত করার বিতর্কিত ধারা বাদ দিতে হবে। বাঙ্গালী মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসী সন্তু লারমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে বহিস্কার করতে হবে।


(৮) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কতৃক অনুমোদিত জাতি নির্মূলকারী জিএম ফুড ‘গোল্ডেন রাইস’ উৎপাদনের অনুমোদন বাতিল করতে হবে। জাতি বিনাশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সিনজেনটা কোম্পানী ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকা জিএমও ফুড ‘গোল্ডেন রাইস’ বাংলাদেশে বাজারজাত করতে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটা। এর মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রি কোম্পানীগুলো আমাদের খাদ্যের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় করবে। জিএমও ফুড বাজারজাত করে বীজ, সার ফসল সবই তাদের কর্তৃত্বে নিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিআরআরআই) এর সাথে ইতিমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বহুজাতিক কোম্পানী সিনজেনটা।
বক্তারা বলেন, জিএমও ফুড মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি সম্পন্ন। জিএমও ফুডে’র অতিরিক্ত জিন দেহের পাকস্থলী কিংবা তন্ত্রের উপর হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে জিএম ফুডে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন অনুপ্রবেশ করালে দেহের এন্টিবডি বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জিএম খাদ্য খেলে প্রজননক্ষমতা হ্রাস, শিশুর জন্মগত ত্রুটি, কিডনিতে সমস্যা, যকৃতে সমস্যা, ক্যান্সার ইত্যদি জটিল রোগ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে- জিএম ফুডে ঢুকানো অন্যজীবের জিন মানুষের পাকস্থলী ও অন্ত্রে হজম হয় না। কখনো রক্তের মাধ্যমে জন্মগত ডিএনএ-এর সাথে মিশে গিয়ে আচরণের পরিবর্তন আনে। এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি ১০০ ভাগ বেড়ে যায়।
বক্তারা বলেন, সেই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি সম্পন্ন ফুড ‘গোল্ডেন রাইস’কে গবেষণার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয় বিআরআরআই ২০১৩ সালের এপ্রিলে এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে গোল্ডেন রাইস চাষ করার জন্য ছাড়পত্রও দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। অথচ স্বাস্থ্য ও পরিবশেগত ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতে এক যুগ ধরে চেষ্টা করেও এই ধান আবাদের অনুমোদন মেলেনি। ফিলিপাইনে ২০১৩ সালে গোল্ডেন রাইসের বিরোধীরা গবেষণা মাঠের ধানগাছ উপড়ে ফেলেছিল। সেজন্য বাংলাদেশে জিএম প্রযুক্তির কোম্পানিগুলো এত আগ্রহ। অথচ বাংলাদেশে সে ল্যাবরেটরী না থাকা স্বত্ত্বেও ‘নামকা ওয়াস্তে’ ফিল্ড টেস্টিং সম্পন্ন করেই বাজারজাতকরণে যাচ্ছে গোল্ডেন রাইস। একবার বাংলাদেশের বাজার পুরোপুরি দখলে নেয়া গেলে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের কৃষিও তাদের হাতে আনাটা সহজ হবে। সেই সঙ্গে এদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা পরনির্ভশীল হয়ে যাবে। বিআরআরআই মহাপরিচালক কুমার বিশ্বাস বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস বাজারজাতের হোতা।
বক্তারা বলেন, গোল্ডেন রাইসকে বলা হচ্ছে, বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ জৈব প্রযুক্তি প্রকৌশলের মাধ্যমে রূপান্তরিত ধান। এই ধানের বাজারজাতকরণে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, ভিটামিন এ অভাবজনিত রাতকানা রোগ প্রতিরোধ হবে। একদশক ধরে গোল্ডেন রাইস নিয়ে গবেষণায় বের হয়েছে এর মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির কথা। গোল্ডেন রাইস এর বিটা ক্যারোটিন শোষিত হয়ে শরীরে বিষাক্ততা সৃষ্টি করতে পারে। হজম প্রক্রিয়ায় বিটা ক্যারোটিন পরিবর্তিত হয়ে রেটিনল বা রেটিনোইক এসিডে রূপান্তরিত হতে পারে, যা চর্বি বা চষধংসধ তে জমা হতে পারে কিন্তু এর প্রভাব বিষাক্ত এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। নিম্ন মাত্রায় ভিটামিন-এ স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ তলপেট, নাকে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শিশুদের ঋড়হঃধহবষষব সৃষ্টি করতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী বিষাক্ততা হাড় ও হাড়ের সংযোগস্থলগুলোর ব্যথা সৃষ্টি, চুল পড়া, শুষ্কতা জ্বর, ওজন হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, ঠোঁটে ফাটলের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য গোল্ডেন রাইসকে ‘ট্রোজান হর্স’ বলা হয়। উল্লেখ্য বাংলাদেশের সয়াবিন তেলের একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় আমেরিকা, ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনা থেকে। অথচ ওই সমস্ত দেশের সয়াবিন তেলের প্রায় সবটাই জিএমও বা জেনেটিকালি মোডিফাইড।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কতৃক অনুমোদিত জাতি নির্মূলকারী জিএম ফুড ‘গোল্ডেন রাইস’ উৎপাদনের অনুমোদন বাতিল করতে হবে। জাতি বিনাশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সিনজেনটা কোম্পানী ও বিআরআরআই মহাপরিচালক ড. জীবন কুমার বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।


(৯) ভারত মুসলমানদের ফিরিয়ে না দিয়ে ১ লাখ কোটি টাকার শত্রু সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ৬ লাখ একর শত্রু সম্পত্তি হিন্দুদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আইন করা হয়েছে। অবিলম্বে বিতর্কিত অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে। কুচক্রীদের থেকে মুসলমান প্রতি বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, গত ১৫ জানুয়ারী টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ সূত্রে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে যে, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারতে যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্থানে চলে যাওয়া ভারতীয় মুসলিমদের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ৯ হাজার ৪০০টি ‘শত্রু সম্পত্তি’ ফিরিয়ে না দিয়ে নিলামে তুলছে ভারত সরকার। অথচ একই যুদ্ধের সময় তৎকালীন পূর্বপাকিস্থানে তথা বর্তমান বাংলাদেশে ঘোষিত ‘শত্রু সম্পত্তি’ বা পরবর্তীতে ঘোষিত ‘অর্পিত সম্পত্তি’ এদেশের হিন্দুদের ফিরিয়ে দিতে কথিত অর্পিত সম্পত্তি আইন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায় সর্বোপরি মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী হিন্দু তোষণমূলক সিদ্ধান্ত।
বক্তারা বলেন, ১৯৬৫ সালে সময় যারা দেশ ত্যাগ ভারতের পক্ষাবলম্বন করেছিল তাদের সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ গন্য করা হয়। এ যুদ্ধের সময় ভারত কর্তৃক ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষিত মুসলমানদের সম্পত্তি এখনো কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারত মুসলমানদের ফেরত দেয়নি। বর্তমানে শুধু মুম্বাইতে ১৬০০০ শত্রু সম্পত্তি ফেরত পেতে ৫৫০টি মামলা হলেও মুসলমানদেরকে তাদের ভূমি ফেরত দেয়া হয়নি। তাহলে বাংলাদেশে ঘোষিত ৬ লাখ একর ‘শত্রু সম্পত্তি’ তথা ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিন্দুরা কিভাবে পেতে পারে? তাছাড়া যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বা দেশ ছেড়ে যাওয়া নাগরিকরা সম্পত্তির দাবিদার হতে পারেনা। যারা দেশপ্রেম বাদ দিয়ে শত্রু দেশে আশ্রয় নেয় এবং স্বদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কিভাবে ভূমি ফেরত পেতে পারে?
বক্তারা বলেন, ৬ লাখ একর ভূমির সবটুকুই অর্পিত সম্পত্তি নয় বরং এ সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১৯৫৭ সালের নুন-নেহেরু প্যাক্টের আওতায় ভারত থেকে এদেশে আসা মুসলমানদের বিনিময় সম্পত্তি। যেসব মুসলমান এদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদেরকে ভারতে নিজ সম্পত্তি বিনিময়মূলে বুঝিয়ে দিয়ে এদেশের হিন্দুদের সম্পত্তি বুঝে নিয়েছিল। ভারত সরকার হিন্দুদের প্রতি সহমর্মী হয়ে ভূমি বিনিময় দলিল রেজিস্ট্র্রেশন ভারতে চালু রাখায় তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারতে বিনিময় দলিল রেজিষ্ট্রী করে মুসলমানদের সম্পত্তির মালিকানা লাভ করে এবং স্বপরিবারে ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। কিন্তু ভারত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান সামরিক অধ্যাদেশের কারণে পূর্ব-পাকিস্তানে এসে তাদের বিনিময় সম্পত্তি রেজিস্ট্র্রি করতে পারেননি। তা হিন্দুদের মালিকানায়ই থেকে যায়। সেই সম্পত্তি’র একটা বড় অংশ এখন অর্পিত সম্পত্তির নামে হিন্দুদের হাতে তুলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র এদেশের মুসলমানরা কখনো মেনে নিবে না।
বক্তারা বলেন, আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল, মিশরের সিনাই উপত্যকা, সিরিয়ার গোলান উপত্যকা, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা, ও কানিত্রা শহরটি অনেক জায়গা দখল করলেও যুদ্ধ শেষে ইসরাইল কোন জায়গা ফেরত দেয়নি। বরং তা ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে গন্য করে। ২য় বিশ্বযুদ্ধে বিবাদমান পক্ষদ্বয়ও এক পক্ষ অন্য পক্ষের ফেলে যাওয়া বা দখল করা সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে গন্য করে। অনুরূপ পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যারা পূর্ব পাকিস্থান থেকে সম্পত্তি ফেলে গিয়েছিল তাদের সম্পত্তিও ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য হয়েছে অর্থাৎ এটা সরকারী সম্পদ। যা তারা দাবি করতে পারেনা। এটা কখনো ফেরত দেয়া যাবেনা। বরং অবিলম্বে বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক অর্পিত সম্পত্তিআইন বাতিল করতে হবে। মুসলমানদের বিনিময় সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে হবে।


(১০) যারা আখ এবং পাট চাষ বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়ার কথা বলতে চায় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমস্ত দেশবাসীর চিহ্নিত শত্রু অবিলম্বে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আখের পর এবার দেশের সোনালী আঁশ খ্যাত পাট শিল্প বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে অর্থমন্ত্রী। বিজেএমসি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। পাট শিল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম তাকে “পাট বিরোধী” বলেও ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে গত ২৪ মে অর্থমন্ত্রী বলেছে- “আখ চাষকে আমি নিরুৎসাহিত করছি এবং দেশ থেকে আখ চাষ ধীরে ধীরে উঠিয়ে দেয়া হবে।” অথচ ভারত থেকে চিনি আমদানীর তৎপরতা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের পুরো চিনি ও পাট শিল্প আমদানি নির্ভর করতে চাইছে অর্থমন্ত্রী। যা দেশের উন্নয়ন বিরোধী তৎপরতা।
বক্তারা বলেন, স্বাভাবিকভাবে আখ ও পাট উৎপাদন বাড়লে আরো কয়েক লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সে হিসেবে এই সংকটের জন্য রয়েছে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছার অভাব। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সদিচ্ছা না দেখিয়ে উল্টো পুরো সেক্টরকে বন্ধ করে দিতে চাইছে, যা সত্যিই হতাশাজনক। দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য ‘আখ উৎপাদন না করতে’ এবং পাট শিল্প বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষনা ন্যাক্কারজনক ও স্পষ্ট বিদেশী দালালি ছাড়া কিছু না। যে মন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারে, তার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
সমাবেশ ও মানবন্ধনে সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ-সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর সভাপতি- বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আতাউর রহমান বঙ্গ- সভাপতি ঢাকা মহানগর আওয়ামী ওলামালীগ, আল্লামা আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান- সভাপতি বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন মুসল্লী দ্বীনি কল্যাণ পরিষদ, লায়ন আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা মুহম্মদ শোয়েব আহমেদ, হাফেজ ক্বারী মুহম্মদ শাহ আলম ফরাজী, হাফেজ মুহম্মদ আব্দুল বারী, কারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদুজ্জামান আল কাদেরী, আলহাজ মুহম্মদ খোরশেদ আলম রেজভী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান- বাংলাদেশ রেজভিয়া তালিমুস সুন্নাহ বোর্ড ফাউন্ডেশন, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ খালেদ হাসান, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আল আমীন, আলহাজ্জ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, ববাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, হক্কানী ত্বরীক্বত ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু ওলামা পরিষদ বাংলাদেশ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ এর পক্ষে-

(আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী)সাধারণ সম্পাদক-
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি
মোবাইল: ০১৮১৯-২৭৯৪৭৫।
উল্লেখ্য, মানববন্ধনের স্থান : জাতীয় প্রেসক্লাব, তারিখ : ১৯-০৩-১৮, সময় : সকাল ১০:০০ ঘটিকা
৩৫৫ বার পড়া হয়েছে সব মিলিয়ে ৩ বার পড়া হয়েছে আজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }