শিরোনাম

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ডিজিটাল যাত্রা- সালাম মাহমুদ

টাইমস৭১বিডি ডেস্ক, ঢাকা –

চলচ্চিত্রকে নিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিশ্চয়ই অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেজন্যই হয়ত ১৯৫৭ সালে তিনি প্রাদেশিক সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে সংসদে এফডিসি বিল উত্থাপন করেন এবং এফডিসি বিল পাশ হয়। একটি দেশের জন্য তার সংস্কৃতি কত বড় হাতিয়ার তা অনুধাবন করতেন বলেই বঙ্গবন্ধু বাংলার সংস্কৃতির জন্য এফডিসি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল এ বিলটি উত্থাপিত হয়েছিল যে কারনে ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস করার দাবী উঠে বিনোদন সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্রকর্মীদের প থেকে। চলচ্চিত্র বিষয়ক বিনোদন সাপ্তাহিক মুখোমুখি পত্রিকার সম্পাদক রেদুয়ান খন্দকার ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ঘোষনা এবং চলচ্চিত্রকে সরকারি ভাবে শিল্প ঘোষণার দাবীতে অসংখ্য সভা, সেমিনার, উৎসব আয়োজন করেন এবং এসব সভা, সেমিনার উৎসবে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনোদন দৈনিক আজকের বিনোদনের ব্যানারে আমি এ দাবীগুলোকে সামনে রেখে ৭ দিন ব্যাপী জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উৎসব আয়োজন করি। মিডিয়াকর্মী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের দাবীগুলো একসময় গণদাবীতে পরিণত হয়। গণদাবীকে সম্মান জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্রদিবস এবং চলচ্চিত্রকে সরকারি ভাবে শিল্প ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ডিজিটাল বাংলায় ডিজিটাল চলচ্চিত্র হবে এটাই স্বভাবিক। কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মানে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বরেণ্য সাংবাদিক ও নাট্যনির্মাতা শহীদুল ইসলাম মিন্টু, প্রথম ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মানের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বেটা ফরমেটে দেবদাস চলচ্চিত্র নির্মানের মাধ্যমে, যদিও শেষ পর্যন্ত এটি বেটা ফরমেটে দেবদাস নামেই মুক্তিপায় এবং সিনেমার স্টাইলে বড় পোস্টার করে সারা দেশের ভিডিও দোকানে ভিডিও সিডি আকারে দেয়া হয় এবং ঈদ উপলে এটি মুক্তি দেয়া হয়। পরে কেউ কেউ ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেও প্রথম ডিজিটাল চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর ছাড়পত্র গ্রহণ শেষে মুক্তি পায় ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত, মনসুন ফিল্মস্ প্রযোজিত, অনন্ত, বর্ষা অভিনীত খোঁজ-দি সার্চ। ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ঘোষণা, চলচ্চিত্রকে সরকারি ভাবে শিল্প ঘোষণা, ভিডিও পাইরেসি বন্ধ, সিনেমা হলের পরিবেশন সুন্দর এবং সিনেমা হল ডিজিটাল করা সহ বিভিন্ন দাবীতে আমরা যখন সভা, সেমিনার, উৎসব করছি তখন রেদুয়ার খন্দকার এবং আমার সঙ্গে পরিচয় হয় মনসুন ফিল্মসের কর্ণধার এম.এ জলিল অনন্ত’র সঙ্গে। অনন্ত জলিল তখন খোঁজ-দি সার্চ নামে একটি টেলিফিল্ম এর কাজ শুরু করেছেন। অত্যন্ত স্ম্রার্ট যুবক বিদেশে ফ্যাসনের উপর পড়াশোনা করে গার্মেন্টস শিল্পের বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নতুন কিছু করার আগ্রহে অধীর বিশেষ করে চলচ্চিত্র নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। তারপর চলচ্চিত্রের বিভিন্ন আলাপের পর অনন্ত জলিলের স্বপ্ন পূরণে আমরা পাশে থাকব বলে অঙ্গীকার করি। সপ্তাহ্ খানেক পরে পুনরায় রেদুয়ান খন্দকার এবং আমি অনন্তন জলিলের এজেআই গ্র“পের হেমায়েতপুরস্থ অফিসে মিলিত হই। এদিনই অনন্ত জলিল আমাদের পরামর্শ চান খোঁজ-দি সার্চ ডিজিটাল চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মান করা যায় কিনা। রেদুয়ান খন্দকার তাতে সম্মতি দেন এবং খোঁজ-দা সার্চকে ডিজিটাল চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মান ও মুক্তি পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং এজন্য আমরা সাথে থেকে সব সহযোগিতার অঙ্গীকার করি। এরপর রেদুয়ান খন্দকার এবং আমি বিজয়নগরস্থ স্কাইলার্ক ভবনে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির অফিসে গিয়ে মনসুন ফিল্মসকে সমিতির সদস্য করি। এজন্য সমিতির সদস্য ফি অনন্ত জলিল তার স্টাফকে দিয়ে পাঠিয়ে দেন। তিন দিনের মধ্যে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সদস্য পদ এবং পরিচয়পত্র হাতে পাই। এবার খোঁজ-দি সার্চকে চলচ্চিত্র হিসেবে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নাম এন্ট্রি করতে যাই। কিন্তু চলচ্চিত্রের পরিচালক ইফতেয়ার চৌধুরী এর পূর্বে বাংলাদেশে কোন চলচ্চিত্র নির্মান করেননি, তাই তাকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে পরীা দিয়ে পাস করে সদস্য হতে হবে। যা হোক সে সময় মোহাম্মদ হান্নান সভাপতি এবং শাহ্ আলম কিরণ সাধারণ সম্পাদক দু’জনের সহযোগিতায় পরীা ছাড়ায় ইফতেতখার চৌধুরীকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সহযোগী সদস্য পদ লাভ করতে সম হয়। এরপর পুরোদমে চলচ্চিত্রটির সুটিং শুরু হয়। এক এগারোর জরুরী অবস্থার মাঝেও রেদুয়ান খন্দকারের চেষ্টায় কেপিআই এলাকায় ট্রেনের পারমিশন নিয়ে ট্রেনের স্যুটিং করা হয়। স্যুটিং এর সাথে সাথে এডিটিং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ চলে। বর্তমান সরকার গত মেয়াদে মতায় আসার প্রথমেই এফডিসির মান্না ডিজিটাল হলে আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপিকে চীফ গেস্ট করে ডিজিটাল চলচ্চিত্র খোঁজ-দি সার্চ নিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং চলচিত্রটির অংশ বিশেষ দেখানো হয়। আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মুগ্ধ হন এবং খোঁজ-দি সার্চকে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রটির অংশ বিশেষ দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ফেব্র“য়ারী নন্দনপার্কে টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) আয়োজিত ট্রাব অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সারাদিন চলচ্চিত্রটির অংশ বিশেষ বার বার দেখানো হয়। ঐ অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের নায়ক অনন্ত এবং নায়িকা বর্ষা হেলিকপ্টারে করে আসেন। সরকারের গত মেয়াদে প্রায় সকল মন্ত্রী মহোদয়কে প্রধান অতিথি করে আমরা চলচ্চিত্রটির অংশবিশেষ দেখাই এবং ডিজিটাল চলচ্চিত্র বিষয়ে আলোচনা করি। সকলেই ডিজিটাল চলচ্চিত্রের ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রেসকাবে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎকালীণ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এমপি, তারানা হালিম এমপি, মমতাজ বেগম এমপি। ঐ অনুষ্ঠানে মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়াদা সাজেদা চৌধুরী এমপি দীর্ঘসময় উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। খোঁজ-দি সার্চ চিত্রনায়ক অনন্ত এবং রেদুয়ান খন্দকারের প্রশংসা করেন ও উৎসাহ দেন। চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ডে জমা দিতে যাই রেদুয়ান খন্দকার এবং আমি। তখনো সেন্সর বোর্ডে ডিজিটাল পদ্ধতির চলচ্চিত্র প্রদর্শনের প্রযুক্তি চালু হয়নি। আমাদের নানামুখি চেষ্টা ও অনুরোধে দু’সপ্তাহ্ পর সিডি ফরমেটে খোঁজ-দি সার্চ সেন্সরের জন্য জমা দেই। কিন্তু সেন্সর বোর্ড খোঁজ-দি সার্চ ব্যান্ড করে দেয়। অনন্ত তখন বিদেশে। ভরসা এবার আপীল বিভাগ। আপীল বোর্ডের সদস্য ছিলেন দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ার, কবরী সারোয়ার এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক এবং শিল্পকলা একাডেমির ডিজি কামাল লোহানী। রেদুয়ান খন্দকার এবং আমি আপীল বিভাগের সকল সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে খোঁজ-দি সার্চ সেন্সর ছাড়পত্র দেয়ার জন্য আবেদন জানালাম। সম্মানিত আপীল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ আমাদের আবেদন মূল্যায়ন করে খোঁজ-দি সার্চ এর সেন্সর ছাড়পত্র অনুমোদন করেন। এর কয়েকদিন পরই ডিজিটাল চলচ্চিত্র খোঁজ-দি সার্চ মুক্তি পায় এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি/1537a8deaf400d4a/
২৩২১ বার পড়া হয়েছে সব মিলিয়ে ৩ বার পড়া হয়েছে আজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }