শিরোনাম

আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ সূফি মোখতার আহমদ রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী –

 মদনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ সূফি মোখতার

আহমদ রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী – 


জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট ওয়ায়েজ, গবেষক, ধর্মীয় বহু গ্রন্থ প্রণেতা, হাদীয়ে জামান আধ্যাত্মিক মহান সাধক পীরে মোকম্মেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সূফি মোখতার আহমদ রহ. ১৯১৯ সনে চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত গাজিপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও শিক্ষিত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। হাজ্রাতওয়ালার পিতা আলহাজ্ব মাওঃ মুহা. ফাজেল দেওয়ান ছাহেব রহ. তিনি দিল্লির আমানীয়া মাদরাসা থেকে হাদীস শাস্ত্রে উচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন, ওনার (রাহ) মাতা মোছা. আশরাফুন্নেছা। দাদা মুহা. আশরাফ আলী দেওয়ান। উত্ত দেওয়ান বংশে অসংখ্য বিখ্যাত আলেমে দ্বীন জন্মগ্রহন করেন।

প্রাথমিক ও ইলমে ক্বেরাত শিক্ষাঃ

প্রথমে তিনি প্রাইমারী শিক্ষা সমাপ্ত করে পাক ভারতের প্রখ্যাত ক্বারী মাওঃ ইব্রাহিম ছাহেব রহ. এর নিকট ইলমে ক্বেরাতের উপর ডিগ্রী অর্জন করেন।

ছারছীনা মাদ্রাসায় অধ্যায়নঃ

মরহুম পীর ছাহেব রহ. তিনি ছারছীনা আলিয়া মাদরাসায় প্রথম জামাত থেকে কামিল পর্যন্ত লেখা পড়া করেন।। ১৯৪৭ সালে কামিল ডিগ্রী অর্জন করেন।

বাইয়াত : 

ছারছীনা মাদরাসায় অধ্যায়ন কালেই তিনি কুতুবুল আলম হযরত মাওঃ শাহ সূফি নেছার উদ্দিন আহমদ রহঃ এর নিকট বায়াত গ্রহন করেন, বায়াত গ্রহনের পর থেকেই কুতুবুল আলম রাহ. এর খাছ নজরে পরিচালিত হতে থাকেন তিনি । একজন আদরশ পিতা যেভাবে আপন সন্তানকে নিজের থেকে সবটুকুন দিয়ে আপন গুনাগুন নিজ আওলাদদের মাঝে সংস্থাপন করান ঠিক সেভাবেই কুতুবুল আলম শাহ সুফী আল্লামা নেছারুদ্দীন রাহ. হাজ্রাতওয়ালাকে ইলমে তরীক্বতের সবক মশক শিক্ষা দিয়ে আধ্যাত্মিক উন্নতির আলা মাকানে পৌছিয়ে খেলাফত প্রদান করেন।

 

ছারছীনা মাদরাসায় শিক্ষকতাঃ
মরহুম পীর ছাহেব রহঃ তিনি ছারছীনা আলিয়া মাদরাসার খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষতার পাশাপাশি সংগঠনিক দায়িত্বপালন করে সুখ্যাতিও অর্জন করেন। কিছুদিন পর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পীর ছাহেব রহ. কে স্থায়ী ভাবে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করলে তার পীর শাহ সূফি নেছার উদ্দিন আহমদ রহ. বলেন,,

” আমার মোখতার আহমদকে শিক্ষক হিসাবে আটকিয়ে রেখো না উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার আম রাহনুমায়ি করার মহান দায়িত্ব পালনে ছেড়ে দাও” ।

বিবাহ ও সন্তানাদিঃ

পীর ছাহেব রহ. ১৯৪৭ সনে চাঁদপুরে ফরিদগঞ্জের লাউতলী গ্রামের হযরত মৌঃ মুহা. সিদ্দীকুর রহমান সাহেবের প্রথম কন্যা মোছা. হালিমা বেগম এর সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।

তিনি তিন পুত্র ও আট কন্যার জনক ছিলেন । জীবদ্দশায় ছোট একজন পুত্র হারান। অন্যরা সবাই বর্তমানে জীবিত আছেন।

জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে নাজেমঃ

মরহুম পীর ছাহেব বহ. তিনি ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর ছাহেব কেবলাদ্বয়ের সফর সঙ্গী হয়ে সর্বত্র সফর করেছেন। হাজ্রাতওয়ালা রহ. কে দেশে হয়রত কায়েদ ছাহেব রহ এর সাথে জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে নাজেমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সিলেট রেফারেন্ডামেঃ

পীর ছাহেব রহ. ১৯৪৭ সালে সিলেট বিভাগকে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য শাহ সূফি আবু জাফর মুহা. ছালেহ রহঃ এর নেতৃত্বে আট সদস্য বিশিষ্ট টিমে ছিলেন।

পবিত্র হজ্জব্রত পালনঃ

মরহুম পীর ছাহেব রহঃ তিন বার পবিত্র হজ্জ পালন করেন। এবং সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রনে ছারছীনার শাহ সূফি আবু জাফর মুহাঃ ছালেহ রহঃ এর সাথে রাজকীয় মেহমান হিসাবে রাজ সভায় যোগদান করেন, বিশেষ করে পবিত্র খানায়ে কাবার চাবি মেবারক হাতে পাওয়ার ও চুম্বন করার সৌভাগ্যও হাজ্রাতওয়ালার ললাটকে আলোকিত করেছিলো।

মদনা দরবার শরীফঃ

মরহুম পীর ছাহেব রহঃ তার নিজ মোর্শেদের নির্দেশ পালনার্থে দেশে ও দেশের বাহিরে তাবলীগি সফর করতেন। প্রায় সারা বছর সফরে থাকতেন যার করনে নিজ বাড়িতে বড় আকারে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তিনি সুযোগ পাননি।

তারপরেও তিনি ১৯৫৮ সালে নিজ বাড়িতে সপ্তাহিক তালীমি মাহফিল, হাফেজিয়া মাদরাসা, গোরস্তান, মাদরাসাতুল মাসায়িল ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন।

দ্বীনিয়া মাদরাসাঃ

পীর সাহেব রহঃ বার্ধক্য জনিত বয়সে ছারছীনা শরীফের বর্তমান পীর ছাহেব (মাঃ জিঃ য়াঃ) এর উপস্থিতিতে ১/২/২০০৯ সালে দ্বীনিয়া মাদরাসা ভিত্তি স্থাপন ও পড়া লেখার কর্যক্রম শুরু করেন।

তাবলীগি সফর ও মসজিদ মাদরাসাঃ

মরহুম পীর ছাহেব রহঃ তিনি সারা দেশের সর্বত্র হেদায়েত দাওয়াত নিয়ে সফর ওয়াজ মাহফিল করতেন। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, সিলেট, ফরিদপুর অঞ্চলে তিনি প্রচুর সময় দিতেন। সে সুবাদে তিনি অনেক মসজিদ মাদরাসা খানকাহও প্রতিষ্টা করেন।

গাংনী খানকায়ে নেছারীয়া,মোখতারী হাফেজিয়া মাদরাসা, ভরাট মাদরাসা, গাড়াবাড়া মাদরাসা, বালিয়া ঘাট খানকাহ,কোলা খানকাহ, জামবাড়িয়া মাদরাসা, জামবাড়িয়া মোখতারীয়া খানকাহ, বালিয়া দিঘী মাদরাসা, রানীবাড়ি মসজিদ, তিরাইল, হাতিয়া মাদরাসা সহ কয়েক শত মসজিদ মাদরাসা খানকাহ তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

কিতাব প্রনয়নঃ

পীর ছাহেব রহঃ দেশে বিদেশে সফরের পাশাপাশি যখন সময় পেতেন তখনেই কিছু লেখালিখি করতেন।। তিনি প্রায় বাইশ খানা কিতাব লেখেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আমার নবীর দেশ, আমার প্রানের রাসূল, রহুল ওয়ায়েজীন, রফিকুল মাসনবী, শেষ ওয়াজ, নরীর জরুরি মাছায়েল, নামাজ শিক্ষা, কোরআনের আমল, নবীজির ইন্তেকালশরীফ সহ অনেক কিতাব।

লন্ডন সফরঃ

পীর ছাহেব রহঃ ১৯৮৮ সালে লন্ডনে ৩ মাস ১৩ দিনের সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন মসজিদে ও বড় বড় হল রুমে প্রচুর মাহফিল করেন এবং লন্ডন সফর শেষে পবিত্র হজ্জ পালন করে দেশে ফিরে আসেন।

বাহাসঃ

মরহুম পীর ছাহেব রহঃ বাতিল আকিদার বিরুধ্যে অনেক গুলো বহস করেন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পক্ষে সব বাহাসে জয় লাভ করেন।

বিবি ছাহেবার ইন্তেকালঃ

পীর ছাহেব রহঃ এর সহধর্মীনি বিবি ছাহেবা অত্যন্ত পরহেজগার, ধৈর্যশীলা, পর্দাশীন রমনী ছিলেন।। তিনি বিত্তশালী পরিবারের কন্যা হওয়া সত্ত্বেও সরল সহজ ভাবে জীবন যাপন করতেন। বিবি ছাহেবা শেষ বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়, কয়েকদিন পরে ১৭ মার্চ ২০০১ সনে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহী…রাজিউন)।। ওই সময়ে পীর ছাহেব রহঃ গাংনী খানকায় মাহফিলে ছিলেন সংবাদ পেয়ে বাড়িতে আসেন ১৯ মার্চ সকাল ১০ টায় পীর সাহেব কেবলার ইমামতিতে জানাযার নামাজ শেষে দাফন করা হয়।।

মদনা দরবারের ছোট শাহ ছাহেব হুজুরকে গদ্দীনশীন দায়িত্ব প্রদান –

পীর ছাহেব রহঃ এর কনিষ্ঠ পুত্র আলহাজ্ব মাওঃ শাহ মুহা. মাহবুবুর রহমান ছাহেব তিনি ১৯৭৯ সালে কামিল হাদিস পাশ করেন। পীর ছাহেব রহঃ নিজ পুত্রকে দোয়া ফায়েজ ও তাওয়াজ্জুহ দিয়ে যোগ্য বানিয়ে নেন। অপর দিকে ছারছীনার দরবারের শাহ সূফি আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ রহ. এর নিকট বায়াত করিয়ে তরিকাতের মাকাম অর্জন করান ও দীর্ঘদিন হাজ্রাতওয়ালার রাহ. সফর সঙ্গী হিসেবে রাখেন এবং ছারছীনা শরীফের বর্তমান পীর ছাহেব কেবলা শাহ মোহাম্মদ মোহেবুল্লাহ (মাঃ জিঃ আঃ) এর সোহবত ও ফায়েজ অর্জনের সুযোগ দিয়ে পুত্রকে নিজ স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মত যোগ্য করে তোলেন।

পীর ছাহেব রহঃ বৃদ্ধ বয়সে সফরে যেতে না পারায় ছোট শাহ ছাহেব সফরে যেতে বলতেন।

পীর ছাহেব রহঃ বৃদ্ধকালীন সময়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মদনা দরবার শরীফের খাস মুরিদগনের দোয়ার মাহফিলে যেতেন। পীর ছাহেব কেবলা রহঃ যখন খুবই অসুস্থ হয়ে পরেন তখন চাঁদপুরের হাসা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃ সুলতান আহমদ রহঃ মঞ্চে পীর ছাহেব কেবলার সামনে ওয়াজ করা অবস্থায় এই দরবারে পরবরতী গদ্দীনিশিন কে দায়িত্ব নিবে জানতে চাইলে পীর ছাহেব রহঃ বলেন, কেহ যদি গাছের চাড়া লাগায় আর ঐ গাছের গোড়ায় অন্য কেহ যদি পানি দেয় তাহলে যে গাছ লাগিয়েছে সে খুশি হয়।

এবং পীর ছাহেব কেবলা রহঃ বয়ানে বলেন আমি বার্ধক্য অবস্থায় কোথায় সফরে যেতে পারিনা, আমার ছোট ছেলে সফরে যায়, আপনারা আমাকে যে ভাবে মহব্বত করতেন তাকে সেই ভাবে মহব্বত করবেন এবং হিদায়াত ও তাবলীগের কাজে সেরুপ সহযোগিতা করবেন।

ইন্তেকালঃ

পীর ছাহেব রহঃ বার্ধক্যজনিত কারনে দিন দিন শরীরিক দুর্বল হয়ে পরেন ।

হুজুরের ইন্তেকালের আগের দিন অবস্থা অবনতি দেখে ছোট শাহ ছাহেব হুজুর তার ছেলে শাহ কাওসার ও মেয়েকে সংবাদ দিলে সবাই বাড়িতে চলে আসে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পীর সাহেব রহঃ বড় ছেলে যিনি একজন অভিঞ্জ ডাক্তার, তিনি হুজুরকে দেখেশুনে বললেন অবস্থা অবনতির দিকে। সকলের মনে তখন হতাশার ছাপ, তারা অজানা এক অাশংকায় ভুগছিলেন, পরিবারের সবাই দোয়া কালাম পড়তে থাকেন।

আশেকে ইলাহী আশেকে রাসূল ,হাদিয়ে মিল্লাত হযরত পীর ছাহেব কেবলা তার আওলাদ ফরজন্দ আত্মিয় স্বজন ও সমস্ত মুরীদ মোহেব্বীনগনকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ১১ ফ্রেরুয়ারী ২০১০ সানে বৃস্পতিবার সকাল ৮:১৫ মিঃ ৯১ বছর বয়সে ইহধাম ত্যাগ করে আল্লাহ তায়ালার সাথে মিলিত হলেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)

মুহুর্তের মধ্যে সংবাদ পৌছলে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসলো।

মদনা দরবার শরীফে সকাল ৯ টায় আত্মীয় স্বজন ও জমইয়াতে হিযবুল্লাহ দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে মিটিং বসেন।

ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব কেবলার অনুমতি নিয়ে বিকাল ৫ ঘটিকার সময় জানাযার নামাজের সময় নির্ধারন করা হয়। (ছারছীনা পীর সাহেব হুজুর উত্তরবঙ্গে সফরে থাকায় আসতে পারেননি)

আসরের নামাজের পরে উপস্থিত ব্যাক্তিবর্গ, ওলামায়ে কেরামগন হুজুরের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন। শেষে হুজুরের বড় জামাতা আলহাজ্ব মাওঃ আমির হোসাইন সাহেব ছোট শাহ ছাহেবজাদাকে গদ্দীনশীন ঘোষনা করেন। বড় ছাহেবজাদার আলোচনার শেষে ছোট শাহ ছাহেবজাদা আলোচনা করেন এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জানাযার নামাজের ইমামতি করেন আলহাজ্ব মাওঃ শাহ মুহাঃ মাহবুবুর রহমান ছাহেব।।

বিঃদ্রঃ মদনা দরবার শরীফে প্রতি বৎসর ৯,১০,১১ ই ফ্রেরুয়ারী ইসালে ছাওয়াব মাহফিল

অনুষ্ঠিত হয়।

লিখেছেন – পীরজাদা আলহাজ্জ শাহ মোহাম্মাদ কাওসার সাহেব।
সম্পাদনায় – মাওলানা শোয়ায়েব হোসাইন মোল্লা।
২২১১ বার পড়া হয়েছে সব মিলিয়ে ৯ বার পড়া হয়েছে আজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }