শিরোনাম

মানবতা, তুমি কোথায়? —– সাইমুম আল-মাহদী

টাইমস৭১বিডি ডেস্ক, ঢাকা – বাংলাদেশ –

মানবতা, তুমি কোথায়?

সাইমুম আল-মাহদী 

রোহিঙ্গা মুসলিম দাড়িয়ে তোমার অপেক্ষায়, বিশ্ব মানবতা তুমি কোথায় ???

এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই হয়ত আপনার কাছে থেকে থাকবে! হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ নিয়ে এরকম কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরেছি, বিশ্বমানবতার কাছে। হাজার বছর ধরে বসবাসরত আরাকান মুসলিম রোহিঙ্গারা কেন উদ্বাস্তু? নিজ দেশে প্রবাসী, এর চেয়ে জঘন্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে? শুধু কি তাই?

পৈশাচিক, বর্বরোচিত, অমানবিক,অমানুষিক নির্যাতন, নিপীড়ন করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং গুম, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট করে রচনা করেছে, ইতিহাসের জঘন্যতম কলংক লেপন অধ্যায়। এ কেমন নির্মমতা?

নিপীড়ন নিধনের স্টিমরুলার চালিয়েছে, আমার নিরিহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলমান ভাইদের উপর। এক দিকে ঐ নরপিশাচ, কুলাঙ্গার বার্মি আর্মিরা অন্যদিকে কমলা রঙের কাপর পরিহিত জাহান্নামের কীটগুল। বিশ্ব বিবেকের কাছে প্রশ্ন, মুসলিম বলেই কি তারা নির্যাতিত? এটাই তাদের অপরাধ?

তুমি নাফ নদীর দিকে তাকিয়ে দেখ,স্রোতধারা রক্তিম বর্ণ ধারন করেছে। দেখ, তোমার ঐ ছোট্ট বোনটির লাশ পানিতে ভাসছে। আমরা পারিনা ওদের একটু আশ্রয় দিতে, পারিনা সামান্য মাথা গোজার ঠাই করে দিতে?

এটা আমাদের চরম ব্যর্থতা। দেশরত্ন, জন দরদী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! আপনি কি ঐ অর্ধ ডুবন্ত আপনার ওই ছোট্ট বোনটিকে কোলে তুলে নিবেন না? আপনার এই নিষ্পাপ অনাথ রোহিঙ্গা ভাইটিকে আপনার কোমল হাতের পরশ বুলিয়ে শান্তনা দিবেন না?

আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, আজ বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ পিতা, বেচেঁ থাকলে অবশ্যই তিনি তা করতেন। কারন, আমি হয়ত সেই কিংবদন্তির সাক্ষাত পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, কিন্তু আমি অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সেই মানবতার নিবেদিত প্রাণের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। এ প্রশ্ন আপনার, আমার, সবার। কোথায় ৪৫ টি মুসলিম দেশের oic, মানবতার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ কেন নিশ্চুপ?

কেন নেই কার্যকরী ব্যাবস্থা? আনান কমিশন করেও কেনইবা ইতি হয়নি এ অবক্ষয়ের? অচিরেই এর সমাধান করার জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ করছি।

অনুরোধ করছি, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দদের। কেন?

বিশ্ব মিডিয়া লেন্সে আরাকানের সেই নির্মমতার ছবি আড়াল হয়ে যায়?কেনইবা তারা তুলে ধরছে না, অত্মরক্ষার্থে অস্ত্রহীন রোহিঙ্গাদের অধিকারের প্রতিবাদ।তোমদের কর্নকুহুরে কি শিহরন বাজে না,রোহিঙ্গা মায়ের আর্তনাদ,বোনের ক্রন্দন মর্সীয়, বেদনা ব্যাথাতুরের মৃত্যুর জয়ভেরি, রোনাজারী। নিষ্পাপ শিশুটির হাহাকার। লেলিহান অগ্নিশিখায় দগ্ধ অসহায় মুসলমানদের আর্তচিত্কার। আরাকানের আকাশ-বাতাসের শোষণ নিপীড়নের দৃশ্যপট।তোমরা কি শুনতে পাওনা, ওদের কথাগুলো? দেখ সে অধিকারের কথাগুলো উদ্ভাসিত হয়েছে, রক্তিম আলপনায়।আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই। আসুন, ওদের পাশে দারান। এদের দুঃখের সঙ্গি হন। এই অরাজকতা অশান্তি সৃষ্টির জন্যই কি দেওয়া হয়, শান্তির নোবেল পুরস্কার? তা প্রশ্নবিদ্ধ।

আমরা নোবেল কমিটির প্রতি জোর দাবি জানাই, অচিরেই যেন অং সান সু চির নোবেল পুরস্কারটি পত্যাহার করা হয়।কেন মুসলমানদের এমন অবস্থা? কাজী নজরুল ইসলাম সে প্রশ্নটিই করেছিলেন,ভুবনজয়ী তোরা কি হায় সেই মুসলমান?

/খোদার রাহে আনিল যারা দুনিয়া না- ফরমান। /এশিয়া ইউরোপ আফ্রিকাতে যাহাদের তাকবীর ধ্বনিল, উড়িল যাদের বিজয় নিশান / ভুবনজয়ী তোরা কি হায় সেই মুসলমান?

এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। এ সম্পর্কে অন্য একদিন লিখব। ইতিহাসের সোনালী শুকনো পাতার জিঞ্জিরাবদ্ধ কালো অক্ষর গুল হৃদয় তন্ত্রে ঝংকার তুলে কর্নকুহুরে শিহরন বেজে যায়, এই সেই মুসলমান যারা একদিন এ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। অর্ধ পৃথিবী যারা শাসন করেছিল। আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে ধরাধাম মুখরিত কম্পিত প্রকম্পিত করেছিল। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় (তাহজিব, তামাদ্দুনে) বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিল। আজ তারা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। কিন্তু সেই মুসলিম ইসলামের সঠিক শিক্ষা থেকে ফিরে এসে, পরস্পরের অনৈক্যের মাধ্যমে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে। এটাই সুধু কারন নয়, এ দুর্দশার জন্য। একদিকে ইয়াহুদি খৃষ্টানদের গভীর ষড়যন্ত্র আপর দিকে ধর্মীয় গোড়ামি, ধর্মান্ধতা আর অপব্যাক্ষ্যা এ শান্তির ধর্মকে কলুষিত করছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ। কই ইসলামের দর্শন তো এমন না,ইসলাম,অন্য সকল ধর্মের আচার অনুষ্ঠান কৃষ্টি কালচারের নিরাপত্তা বিধান করেছে।

হযরত উমর (রা) এর আল আকসা বিজয় ও জেরুজালেমের অমুসলিম অধিবাসী দের প্রতি তার প্রণীত নীতিমালা পড়ে দেখ। যেখানে তিনি বলেছিলেন,আল্লাহর খলিফা উমর এই মর্মে নিরাপত্তা বিধান করতে যে, তোমরা(জেরুজালেম বাসি) তোমাদের ক্রস, গির্জা আর আপন সংস্কৃতির সাথে নিরাপদে এই শহরে বসবাস কর। তোমাদের কাউকে জোর করে ধর্মান্তর করা হবে না। তোমরা যার যার ধর্ম সে পালন করবে।

যাহোক, জঙ্গিবাদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করল(এই হত্যার পাপ তার উপর বর্তাবে)” সূরা মায়েদা। সুস্থ মস্তিষ্কের একজন মুসলমান কখনই জেনে শুনে এই বিকৃত মস্তিষ্কের কর্মকান্ডের সাথে জড়াতে পারে না। যে এমনটি করে সে হয়তো উন্মাদ নয় তো তাকে উন্মাদ করা হয়েছে। আজ এ সম্পর্কে একটি কথাই বলব, ইসলাম তরবারি না বরং উদারতার ছায়ায় তলে।

লেখক,,,, আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
১৭৯১ বার পড়া হয়েছে সব মিলিয়ে ৬ বার পড়া হয়েছে আজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }