শিরোনাম

আদালতের রায় কতটা রুখতে পেরেছে ভারতের উগ্র হিন্দুদের?

আদালতের রায় কতটা রুখতে পেরেছে ভারতের উগ্র হিন্দুদের?

টাইমস৭১বিডি ডেস্ক, ঢাকা-বাংলাদেশ –
বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইস্যু হল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট। অথচ কিছুদিন আগেও আলোচনার শীর্ষে ছিল ভারতের গো হত্যার নামে মুসলমান হত্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমের প্রচারিত রোহিঙ্গা ইস্যুটি এতই প্রাধান্য পেয়েছে যে মানুষ ভারতের তান্ডবকে ভুলতে বসেছে। কিন্তু ভারতের উগ্র হিন্দুরা কি ভুলেছে?

গত ২৫ আগস্ট ভারতের উচ্চ আদালত কর্তৃক রায়ে বিচারপতি মানুষের ব্যাক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং প্রতিটি জেলায় একজন করে পুলিশ অফিসার ( যার কাজ হচ্ছে গো হত্যাকে কেন্দ্র করে গুণ্ডামি বন্ধ করা) নিয়োগ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। উক্ত রায়ের ফলে গো হত্যা ইস্যু নিয়ে সকল বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, গুজরাট, হরিয়ানা সহ যেই সকল রাজ্যে নিষিদ্ধ ছিল সেই সকল রাজ্যের মুসলমানদের মনে এখন আশার সঞ্চার হতেই পারে।
কিন্তু বাস্তবতা তো অন্য কিছু বলছে। রাজ্য সরকারগুলো তথা ব্যাক্তি পর্যায়ে এই রায় যে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি তার প্রমাণ হচ্ছে আদালতের রায় থাকা সত্তেও গত ০৮ সেপ্টেম্বর ভারতের পর্যটন মন্ত্রী আলফোন্স কান্নানথানাম ভারত সফরে আশা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা গরুর মাংস খেতে চাইলে নিজ দেশ থেকেই খেয়ে আসবেন। এবং গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ কেরলে গরুর মাংস খাওয়াই ভারতের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মালয়ালম অভিনেত্রী সুরভী লক্ষীকে হেনস্তা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি এই ভিডিও প্রচার করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট মালয়ালম চ্যানেলের কর্তৃপক্ষকেও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে। দেখা গিয়েছে এই রায়ের পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলেও কেউই আদালতের ধারস্থ হননি। কারণ সংখ্যালঘু মুসলমানরা মনে করছে তারা আদালতে গেলে আদালত তাদের ব্যাক্তিজীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হবে। রাজ্যভেদে গো হত্যা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় তারতম্য এবং রাজ্য সরকারের অধিকাংশ মোড়ল উগ্র হিন্ধু হ্বার কারণে এই রায়ের সফলতা নিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমান সহ অনেক হিন্দুদের মনে ও প্রশ্ন রয়েছে।

হিন্দু ধর্ম বা সনাতনী ধর্মে একটি বিশ্বাস আছে গরু তাদের দেবতা। তাদের আদি ধর্ম বেদে গো হত্যা এবং খাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা গরুকে মাতৃতুল্য মনে করে। তাদের ভাষ্যমতে যেহেতু গরু আমাদের মাতৃদুগ্ধের নেয় দুধ দেয় এবং অন্য কোন প্রাণি এরুপ দেয়না তাই গরু আমাদের মায়ের মতন। কথিত আছে তাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একবার অনেক ক্ষুদায় পানির অভাবে তৃষ্নার্ত হয়ে পরে। পরক্ষণে একটি গাভী তাকে দুধ দেয় এবং সে তা পান করে জীবন রক্ষা করে এবং বলে যে তুমি আমাকে আমার মায়ের মত দুধ খাইয়ে বাচালে। তাই আজ থেকে তুমি আমার মা। কেউ কেউ এই বিশ্বাস থেকেও গরু হত্যা থেকে বিরত থাকেন।

এখন আসা যাক ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্মের প্রসারের ব্যাপারে –

৫৮১ হিজরির আগে ভারতবর্ষে মানুষ বিভিন্ন বস্তুর পূজা করত। ফলে সেই সময়ে ভারতে একক হিন্দুত্তবাদ কায়েম ছিল। ৫৮১ হিজরিতে হযরত খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাই মদিনা শরিফ থেকে সরাসরি প্রিয় নবীর আদেশক্রমে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আসেন (উল্লেখ্য এর আগে ভারতবর্ষে ভাজযিকভাবে কোন নবী রাসুলগণ শুভ আগমন করেননি)। তাই ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার প্রসার ঘটে যুগ যুগ সত্যের আউলিয়াকেরামদের হাত ধরেই।
খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাই যখন ভারতিয় উপমহাদেশে আসেন তখন হিন্দু রাজা পৃথ্বীরাজের শাসনামল ছিল। খাজাবাবা এসে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মোজেজা এবং খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা মানবতার মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ মুসলমান তৈরি করেন। পরবর্তীতে ৭০৩ হিজরির দিকে হযরত বাবা শাহজালাল ইয়েমেনি রাহমাতুল্লাহি আলাই প্রায় ৩৬০ জন আউইলিয়া সহ বাংলাদেশে তথা আশাম এলাকায় ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে গৌড় গোবিন্দের অপশাসন থেকে মানুষকে উদ্ধার করে বিশ্ব মানবতার ধ্ম ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরার মাধ্যমে খেলাফতে ইনসানিয়াত ভিত্তিক রাষ্ট্র ঘটন করেন। যার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। এই জন্যই বাঙ্গলাদেশকে বলা হয় পীর আউলিয়ার দেশ।

সেই ৫৩৭ এরত আগে ভারতে একছত্র হিন্দু থাকলেও গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহী আলাই এর আগমনের ফলে হিন্দুরা ক্রমেই মুসলমান হতে শুরু করে। আস্তে আস্তে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। আবার খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ শতাব্দীতে গৌতম বুদ্ধের জন্মের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু হয়। এবং পরবর্তীতে ইহুদী খৃষ্টান সহ আরো কিছু ধর্মের অস্তিত্বও পাওয়া যায় এই উপমহাদেশে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের এই উপমহাদেশ থেকে তাড়ানোর পর আমাদের তৎকালীন মুসলীমলীগ নেতাগণ একটি সিদ্ধান্ত নিলেন যে হিন্দুদের জন্য হিন্ধুস্থান এবং মুসলমানদের জন্য পাকিস্থান এই বলে উপমহাদেশকে প্রায় ৫টি দেশে ভাগ করে দিলেন। বলা হয়ে থাকে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল এইটি কেননা খাজাবাবা এতো কষ্ট ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে হিন্দুদের কাছথেকে এনে আমাদরকে যেই ভারত দান করলেন উনারা ভাগ করার মাধ্যমে খাজাবাবার সাথেই প্রতারণা করলেন। আবার হিন্দুদের জন্য হিন্ধুস্থান এবং মুসলমানদের জন্য পাকিস্থান বলে ভাগ করার মাধ্যমে মুসলমানদের হিন্দুস্থানের মালিকানা হারাতে হল। এবং হিন্দুস্থানের বাসিন্দারাও পাকিস্থানের অধিকার হারালো (যাদের মধ্যে মুসলমানও ছিল)। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হল যেনি আমাদেরকে এই উপমহাদেশ উদ্ধার করে দিলেন উনাকে সেই হিন্দুস্থানে রেখেই বিভাজন করা হল। এই বিভাজনের ফলাফলই এখন আমরা পাচ্ছি। পরবর্তীতে পাকিস্থানকে দুই টুকরা করা হল আর ঐ দিকে হিন্দুস্থানের মুসলমানেরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দাঙ্গা হামলার স্বীকার হতে লাগল। উল্লেখযোগ্য ১৯৯২ সালে পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা।এতোদিন মাঝে মাঝে দাঙ্গা হামলা হলেও ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আবার মাথাচারা দিয়ে উঠেছে উগ্র হিন্দুত্তবাদীরা। শুরু হয় বিভিন্ন দাঙ্গা হামলা। হিন্দু সংখ্যাঘরিষ্ট হওয়ার ফলে তারা সেখানকার মুসলমান তথা অন্য ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় আকিদা বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করে রামরাজ্য কায়েমের পায়তারা করে যাচ্ছে। সবশেষ যেই জিনিসটিকে পূঁজি করা হয়েছে তাহল গো হত্যা।

রাষ্ট্র যদি সার্বজনীন হয় তাহলে রাষ্ট্রের সব মানুষকে তার আকিদা বিশ্বাস প্রচার প্রসারের অধিকার রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। গরু হিন্দুদের কাছে মাতৃতুল্য হলেও মুসলমানদের কাছে ভক্ষণের জন্য একটি হালাল প্রাণী। হিন্দুদের কাছে শুঁকর খাওয়া বৈধ হলেও ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার বৌদ্ধ ধর্মের যে কোন জীবকেই হত্যা করা মহাপাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এখন সংখ্যাঘরিষ্টের ভিত্তিতে যদি কোন ধর্ম বা কোন শাসক তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সবার উপড় চাপিইয়ে দেওয়া শুরু করেন তাহলে পৃতিবীর যে যেইখানে সংখ্যাঘরিষ্ট সে সেইখানে তার মতাদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চালিয়ে দিবে ফলে দুনিয়া হয়ে উঠবে অমানবিক এই সকল হিংস্র ডাকাতদের কসাইখানা। এবং রাষ্ট্র আর সার্বজনীন থাকবেনা। ব্যাক্তি জীবন আর রাষ্ট্রীয় জীবন এক নয়। ব্যাক্তি জীবনে প্রত্যাকেরই নিজস্ব কিছু আকিদা আদর্শ থাকে এবং সে সেটির প্রচার করতে চাইতেই পারেন। তবে সেটা জ্ঞানের মাধ্যমে হতে হবে গাঁয়ের জোরে বা রাষ্ট্র ক্ষমতার বলে নয়। কেননা রাষ্ট্র তার প্রতিটা নাগরিকের অধিকার, স্বাধীনতা নিশ্চিতকরনে বাধ্য। কোন রাষ্ট্রই একক কোন ধর্মের, একক কোন বর্ণের, একক কোন গৌত্রের নামে বা সেই মতাদর্শের ভিত্বিতে হতে পারেনা। যদি হয় তাহলে আর সেটা নামে রাষ্ট্র হলেও কার্যত মিথ্যা, জুলুম, শোষণের কারাগারে রুপান্তরিত হয়। যা কোন ধর্মই সমর্থন করেনা।

এই গো হত্যা নিয়ে তারা এমন একটি ভাব করছে যেন তাদের উগ্র চেতনার বাহিরে অন্য কোন চেতনা কেউ ধারণ করতে পারবেনা। যদি এমনটি চলতে থাকে তাহলে বৌদ্ধরাও যদি তাদের ধর্মের ব্যাপারে উগ্র হয়ে হিন্দুদের শোকর খাওয়াই নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন কেমন হবে?
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং আহলে সুন্নাতের নির্দেশিত জীবন ব্যবস্থার মানবিক রূপরেখা খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মুক্ত মানবতার অখন্ড বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক “ইমাম হায়াত” উনার মনবতার রাষ্ট্র নামক অধ্যায়ে এই উপমহাদেশ সহ সারা বিশ্বের চলমান সংকটের মুল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান দেখিয়েছেন। যার মাধ্যমে আবারো গো-হত্যা, রহিঙ্গা সংকটসহ সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার মাধ্যমে রাষ্ট্র হয়ে উঠবে মানবিক। এবং সব মানুষ মুক্ত স্বাধীণভাবে নিজের রুটি রুজি, অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে চলার সুযোগ পাবে।

লেখকঃ আবেদ হোসেন
বিতার্কিক, সাংবাদিক
৮৪৭ বার পড়া হয়েছে সব মিলিয়ে ৩ বার পড়া হয়েছে আজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }
Inline
jQuery(document).ready(function($) { /*$.removeCookie('dont_show', { path: '/' }); */ $('.popup-with-form').magnificPopup({ type: 'inline', preloader: false, }); if( $.cookie('dont_show') != 1) openFancybox(5000); }); function openFancybox(interval) { setTimeout( function() {jQuery('.efbl_popup_trigger').trigger('click'); },interval); }